স্টাফ রিপোর্টার, গোলাপগঞ্জ: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে মো. সাকিব আহমদ নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে একদল সন্ত্রাসী।
গতকাল রাত ৯টার দিকে সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সাকিবের বড় ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী এবং ঢাকা দক্ষিণ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুস সাহিব। প্রবাসে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সভাগুলোতে অংশগ্রহণ ঠেকাতেই এই পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাকিব আহমদ গতকাল রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকার দিকে ব্যক্তিগত নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করার উদ্দেশ্যে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী বাজারে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই একদল সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী আকস্মিকভাবে তার পথ রোধ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। সাকিব এর প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা লাঠি, হকি-স্টিক ও লোহার রড দিয়ে সাকিবের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
হামলা চলাকালে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যেই চিৎকার করে বলতে থাকে যে, সাকিবের বড় ভাই আব্দুস সাহিব ঢাকা দক্ষিণ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হওয়ার সুবাদে সাকিব চৌমুহনী এলাকায় ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখান। বর্তমানে আব্দুস সাহিব যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। মূলত প্রবাসে বড় ভাইয়ের এই রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই সাকিবের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আক্রমণকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল সাকিবকে প্রাণে মেরে ফেলা।
হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, এই বর্বরোচিত হামলায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন মান্না এবং ঢাকা দক্ষিণ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমদ সুমেল। তাদের নির্দেশনায় আরও বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী এই হামলায় অংশ নেয়। সাকিবের আর্তচিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মো. সাকিব আহমদকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরে রড ও লাঠির মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, "চৌমুহনীতে মারামারির একটি ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, পূর্ববিরোধ ও রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরেই মূলত এই হামলা সংঘটিত হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
