গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মাবলম্বীকে নিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই দেশে আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সংখ্যাগুরুদের অত্যাচার ও জুলুম চলবে না। ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে কোনো মেহনতি মানুষের ওপর খবরদারি থাকবে না, কোনো ব্যবসা কিংবা ঘর নির্মাণের জন্য চাঁদা দিতে হবে না।
তিনি মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বাজারে সিলেট-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘না’ ভোটের পক্ষে যারা প্রচার চালাবে, মানুষ বুঝে নেবে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী দিনে কেউ যেন দেশের বিপক্ষে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি হাবিবউল্লাহ দস্তগীর ও এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এহতেশামুল আলম জাকারিয়ার যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত জনসভায় তিনি আরও বলেন, আমাদের আগামীর বাংলাদেশ হবে স্বপ্নের সোনার ও ইনসাফের বাংলাদেশ। দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রেমিক দলগুলোর সমন্বয়ে এই নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছে। এই জোট বিজয়ী হলে কোনো একক দল বা নেতার নয়, বিজয় হবে বাংলার ১৮ কোটি মানুষের, বিজয় হবে বাংলাদেশপন্থার।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শাহজালালের পূণ্যভূমি সিলেট আগামী দিনে ইসলামপন্থীদের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হবে। শুধু তাই নয়, আজকের এই জনসভা প্রমাণ করছে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মাটি দাঁড়িপাল্লার ঘাঁটি।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক বলেন, এত শহীদের আত্মত্যাগের পরও যদি আমরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে না পারি, যদি আবার চাঁদাবাজ ও জুলুমবাজদের হাতে দেশ তুলে দিই, তাহলে আমরা গাদ্দার জাতি হিসেবে প্রমাণিত হবো। শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষ সব দল ও নেতাকে দেখে ফেলেছে। চাঁদাবাজি ও গুণ্ডামির রাজনীতিতে তারা বিরক্ত। এবার মানুষ ইসলামপন্থীদের বাংলাদেশ দেখতে চায়। আগামীতে যারা চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে আসবে, রাজপথে তাদের প্রতিহত করা হবে।
জনসভা প্রধান বক্তার বক্তব্যে রাখেন,সিলেট-৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
নির্বাচনী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন নিয়াজী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, সিলেট মহানগর শিবিরের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম সাজু, জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা আব্দুল মুমেন জাহেদী ক্যারল, গোলাপগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর রেহান উদ্দিন রায়হান, উপজেলা জামায়াতের নায়বে আমীর জিন্নুর আহমদ চৌধুরী, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহিম, বাদেপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল আহাদ প্রমুখ।
জমসভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজারো নেতাকর্মীরা মিছিল-স্লোগানে উপস্থিত হন।
