লিটন আহমদ :
জীবনের কিছু বিদায় এতটাই আকস্মিক হয়, হৃদয় তখন ভাষাহীন হয়ে পড়ে। মানুষের কোলাহলে ভরা এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের উপস্থিতি নিভৃত বাতির মতো। নিঃশব্দে আলো ছড়ান, সাহস দেন, পথ দেখান। সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব ভাই ছিলেন তেমনই এক আলোকিত ব্যক্তিত্ব।
উনার ইন্তেকালের সংবাদ হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে এক শূন্যতার হাহাকার তৈরি করেছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। যাঁর সঙ্গে গতকালও আছরের পরে উনার চেম্বারে (অর্থাৎ মৃত্যুবরণের ১০ ঘন্টা আগে) দীর্ঘ আলাপ হয়েছিল, যিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন নিয়ে আপন চিন্তায়, দায়িত্ববোধে ও আন্তরিক পরামর্শে ভবিষ্যতের পথরেখা আঁকছিলেন, আজ তিনি নীরব মাটির ঘুমে শায়িত।
কত নির্মম এই সময়! যে মাঠে আজ তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হলো, সেই মাঠের পাশেই আজ আমাদের একসাথে একটি খেলার অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ নিয়তির অমোঘ আহ্বানে তিনি চলে গেলেন অনন্তের পথে, রেখে গেলেন অগণিত স্মৃতি, ভালোবাসা আর অপূরণীয় শূন্যতা।
মুজিব ভাই ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ পরামর্শদাতা, একজন সাহসী আইনজীবী। উনার দৃঢ়তা, আচরণে ছিল সৌজন্য, আর হৃদয়ে ছিল মানুষের জন্য অকৃত্রিম মমত্ববোধ।
সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন হারালো এক অভিজ্ঞ কর্ণধারকে, আইনাঙ্গন হারালো এক ন্যায়নিষ্ঠ সৈনিককে, গোলাপগঞ্জবাসী হারালো তাদের এক কৃতি সন্তানকে, আর আমরা হারালাম স্নেহময় এক বড় ভাইকে।
মহান আল্লাহ পাক মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। তাঁর কবরকে নূরের বাগিচায় পরিণত করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন।
মানুষ চলে যায়, কিন্তু কিছু মানুষ থেকে যান তাঁদের কর্মে, আদর্শে, স্মৃতির গভীরতম অম্লান অধ্যায়ে। মুজিব ভাইও তেমনি থেকে যাবেন শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, অশ্রুসিক্ত স্মৃতির অনন্ত পাতায়।
লেখক : লিটন আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক, সিলেট জেলা যুবদল। আহ্বায়ক, জুলাই যোদ্ধা সংসদ, সিলেট জেলা৷ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।
