নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলায় আসামি হলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহরিয়ার আহমদ (৩০)।
গত ২২ আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত ও আমলী আদালত নং-২ এ পাবেল আহমদ কামরুল (১৮) হত্যা মামলায় তার পিতা মো.রফিক আহমদ বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। যা দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা (মামলা নং-৫, তাং-২৩/৮/২০২৪ইং ও দক্ষিণ সুরমা থানার সি.আর মামলা নং-১৩৮/২০২৪ইং)। বাদি মো.রফিক আহমদ গোলাপগঞ্জ উপজেলা ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের কানিশাইল গ্রামের আপ্তাব আলীর ছেলে।
পাবেল আহমদ কামরুল হত্যা মামলায় তার পিতা রফিক আহমদ বাদি হয়ে মামলায় সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করেন। মামলায় আরও ৫৯ জনের নামোল্লেখ ও ২০০/৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করেন।
উক্ত মামলায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার আহমদকে ৩৯ নং আসামি করা হয়েছে৷ তিনি সিলেট মহানগর ১৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বুটিটিকর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত পাবেল আহমদ কামরুল একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী৷ ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলো। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্র-জনতার মিছিল রুখতে ১ আগস্ট রাতে মামলার আসামিরা পরিকল্পনা করেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ৫ আগস্ট দুপুরে দক্ষিণ সুরমা থানার ক্বিন ব্রিজের সামনে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মামলা আসামি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশী ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় অসংখ্য ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এসময় গুলিবিদ্ধ হন মামলার বাদি রফিক আহমদের ছেলে পাবেল আহমদ কামরুল। ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে জানা যায়, আন্দোলনে চলাকালে মামলার আসামি শাহরিয়ার আহমদ যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। এরপরও হত্যা মামলায় তার নাম এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা যাচ্ছে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় হিংসাত্মক ভাবে তার নাম মামলায় দেওয়া হয়েছে।
