বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : প্রতি বছরের মতো এবারও ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটের মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিল্পীরা বিশ্বনাথে এসে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। উপজেলার কোন কোন মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চললেও অন্যান্য কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আবার ২২টি সার্বজনীন পূজা মন্ডপের অধিকাংশ মন্ডপে প্রতিমায় রঙ দেয়া ছাড়া প্যান্ডেলসহ সকল প্রস্তূতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এবছর উপজেলার ৮ইউনিয়নের মধ্যে ব্যক্তিগত ৩টি সার্বজনীন ২২টিসহ মোট ২৫টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।
আগামি ২০ অক্টোবর শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী হিন্দুধর্মবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সারা দেশের ন্যায় সিলেটের বিশ্বনাথের মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত এখন শিল্পীরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করতে যেমন ব্যস্ত শিল্পীরা তেমনি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আয়োকরাও। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে চলছে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক প্রস্তূতি। উপজেলার ২৫টি পূজামন্ডপে এখন প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কাজ শেষে কোন কোন মন্ডপের প্রতিমাগুলোকে যত্ন সহকারে রোদে শুকানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
এদিকে বিশ্বনাথের ২৫টি মন্ডপের মধ্যে ঝুঁকিপূর্নের (গুরুত্বপুর্ন) তালিকায় ১২টি মন্ডপ রয়েছে। এরমধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ন (অধিক গুরুত্বপূর্ন) মন্ডপ রয়েছে ৮টি।
এগুলো হচ্ছে দিঘলী শিব ও দূর্গাবাড়ি মন্দির, একতা যুবসংঘ দিঘলী, ত্রিনয়নী পূজা উদযাপন কমিটি চন্দ্রগ্রাম, শ্রীশ্রী বৃন্দাবন জিউর আখড়া বৈরাগী বাজার, বিশ্বনাথ পুরান বাজার, বিশ্বনাথ নতুন বাজারের জানাইয়া, কালাগিঞ্জ বাজারের কালিবাড়ী মন্দির এবং বাগিছা বাজারের কালিজুরি মন্ডপ।
তবে যেসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ন কিংবা গুরুত্বপুর্ন ও অধিক গুরুত্বপূর্ন মন্ডপ রয়েছে, সেসব এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সচেতন মহল তাদের সার্বক্ষনিক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন বলে জানালেন উপজেলা পূজা-উদযাপন পরিষদের সদস্য নিশি কান্ত পাল।
তিনি বলেন, যেখানে প্রতিমা তৈরী করে রাখা হয়েছে সেখানে যাতে কোন দুস্কৃতিকারী প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য আমাদের নজরদারি রয়েছে।
বিশ্বনাথ পীরের বাজারে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় এমনিতেই স্থানীয়ভাবে আমরা একে অপরকে সহযোগীতা করে থাকি। আর এটাতো হচ্ছে তাদের একটা ধর্মীয় প্রধান উৎসব। ফলে সফলভাবে পূজা উদযাপনে অতীতেও যেভাবে সহযোগীতা করেছি এবারও যতটুকু সহযোগীতা প্রয়োজন আমরা তা করে যাব।
এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, প্রতিনিয়ত মন্ডপগুলোতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার রয়েছে। ইতিপূর্বে পূজা উদযাপন কমিটির সহ সবার সাথে সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশাফুজ্জামান পিপিএম মতবিনিময় করেছেন। আগামি ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সাদা পোষাকেও বিশ্বনাথের সর্বত্র পুলিশ মাঠে কাজ করবে।
