জাহিদুল ইসলাম, জৈন্তাপুর : সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুরে দীর্ঘ ১২ বছর পর উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও বিগত ৬ মাসে নতুন কমিটি ঘোষনা করতে পারে নাই জেলা ছাত্রলীগ। সম্মেলনের ৬ মাসেও কমিটি গঠন ঘোষনা না হওয়ায় এ নিয়ে বিভিন্ন পদ প্রত্যাশী সহ সাধারণ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে নানা ক্ষোভ ও অসন্তোষ্টি বিরাজ করছে। বিগত ৬ বছর থেকে কমিটি বিহীন অবস্থায় উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
দীর্ঘ ১২ বছর পর চলিত বছরের গত ১৮ মার্চ-২০২৩ইং জৈন্তাপুর ঐতিহাসিক ইরাদেবী মাঠে উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ছাত্রলীগের কর্মী সম্মেলন-কে কেন্দ্র করে তৃণমুল পর্যায়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসাহ-উদ্বীপনা এবং আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল।
সম্মেলনে উপজেলা সহ ২ টি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী তাদের জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ সহ জেলা নেতৃবৃন্দের নিকট। ছাত্রলীগের সম্মেলনের ৬ মাস সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষনা না করায় পদ প্রত্যাশী সহ সাধারণ নেতাকর্মীগণের মধ্যে উৎসাহ উদ্বীপনার উপর তাদের আগ্রহ অনেকটা ভাটা পড়ে গেছে। এতে তৃণমুল ছাত্রলীগে বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ্টি।
জানা গেছে, বিগত ২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সম্মেলনের মাধ্যমে কয়ছর আহমদ সভাপতি, আনোয়ার হোসাইন-কে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় তাদের এই কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের পর থেকে আর নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। কমিটি বিহীন এই অবস্থায় উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠন। তৃনমুল পর্যায়ে ছাত্রলীগ-কে সু-সংগঠিত করে সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে তাদের এই স্থবিরতায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীগন অনেকটা হতাশ ও বিরক্তবোধ করছেন। অনেকই জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ্টি প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের পর কমিটি ঘোষনা নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক শাহেদ আহমদ,উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আনোয়ার হোসেনের সাথে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ পৃথক ভাবে বৈঠক করেন।
সম্মেলনের পর জুন-জুলাই মাসে নতুন কমিটি ঘোষনা'র একটি গুঞ্জন ছিল পদ প্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে। কিন্ত সম্মেলনের ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষনা না করায় ভবিষ্যতে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃত্ব শুন্যতায় মধ্যে পড়তে যাচ্ছে পুরনাে এই বৃহৎ ছাত্র সংগঠন।
কর্মী সম্মেলনে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশী হাবিবুর রহমান, মনসুর আহমদ, বোরহান উদ্দিন, আলমগীর এইচ রায়হান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নেহাল পাল,ফয়সল আহমদ, জালাল আহমদ, জাকারিয়া আলম সহ আরও অনেকই রয়েছেন।
অপরদিকে জৈন্তিয়া বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজে সভাপতি পদে তুহিন আহমদ, আজাদগীর, সাধারণ সম্পাদক পদে বোরহান উদ্দিন, ও হযরত শাহজালাল( রহ.) ডিগ্রি কলেজে সভাপতি পদে আবু হুরায়রা, সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফ আহমেদ জয়,রিফাত আহমেদ, রাশেদ, রব্বানী।। তবে তাদের মধ্যে আবার অনেকই উভয় পদে জীবন বৃক্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দু'টি বলয় থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।
এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশী আলমগীর এইচ রায়হান বলেন, আমরা আশা করছি জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ প্রকৃত ছাত্রত্ব রয়েছেন এরকম মেধাবীদের বাছাই করে দ্রুত্ব সময়ের মধ্যে জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের একটি নতুন কমিটি ঘোষনা করবেন।
এবিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বর্তমান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হানিফ মোহাম্মদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে দল ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগ কমিটি বিহীন রয়েছে। কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন কোনো নেতৃত্ব। আমরা আশাবাদী শীঘ্রই প্রকৃত ত্যাগী ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করে জেলা ছাত্রলীগ নতুন কমিটি গঠন করবে।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, গত জুলাই মাসে আমাদের অবিভাবক মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সহ এক বৈঠকে মন্ত্রী মহোদয় একটি প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা নেতৃবৃন্দকে। বৈঠক পরবর্তী জেলা নেতৃবৃন্দ কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি এবং কমিটির বিষয়ে আমার সাথে আর কথা হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ'র বক্তব্যের জন্য তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা উভয় ফোন রিসিভ করেন নাই।
