বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে কওমি পন্থী মুসল্লিদের মতামত উপেক্ষা করে একজন ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কওমি পন্থী মুসল্লীরা। ইতিমধ্যে ১৬১ জন সাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।
১৯৬১ সালে ধর্মীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে বিশ্বনাথ পুরান বাজার থেকে পৃথক হয়ে বিশ্বনাথ নতুন বাজার সৃষ্টি হয়। তখন থেকে ক্বওমি ও আলিয়া মতাদর্শের দুটি বলয় সৃষ্টি হয়। দক্ষিণপার আলিয়া মাদ্রাসা বলয়ের এবং উত্তর পার ক্বওমি মতাদর্শের। উভয় বাজারের মুসল্লীগণ স্ব স্ব ধর্মীয় মতাদর্শ নির্বিগ্নে নির্বিবাদে পালন করে আসছেন।
২০০২ সালে বিশ্বনাথ উপজেলা মসজিদে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে তৎকালীন সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উভয় পারের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বীগণের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত হয় এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে উভয় বাজারে নিজ নিজ মতাদর্শের ইমাম নিয়োগ দেয়া হবে। উক্ত সিদ্ধান্ত মুতাবিক ২০০২ সালে নতুন বাজারের স্থানীয় জনগণ ও মসল্লীদের চাহিদার ভিত্তিতে তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী উপজেলা মসজিদে ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়। ঐ ইমাম এখনও দায়িত্বরত আছেন। কিন্ত বর্তমানে এলাকার মানুষের মনোভাব যাচাই না করে একতরফাভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে ভিন্ন মতাদর্শ (আলিয়া) লালনকারী একজন ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া মডেল মসজিদের পশ্চিম দিকে ১০০ গজের ভিতরে জামিয়া মাদানিয়া টাইটেল মাদ্রাসা এবং পূর্ব দিকে ১৫০ গজের ভিতরে জামিয়া মোহাম্মদিয়া টাইটেল মাদ্রাসা অবস্থিত।
এই দুটি ক্বওমি মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদেরকে নিয়োগ বোর্ডে না রেখে তাদেরকে পাশ কাটিয়ে ১ কিলোমিটার দূরবর্তী দক্ষিণপারে অবস্থিত আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে নিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে একতরফাভাবে ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাই এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান ক্বওমি পন্থী মুসল্লীরা।
