বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়া ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বর্তমান পৌর মেয়র মুহিবুর রহমান এর মধ্যে চলছে ভিন্নমত ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব।
উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়া নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার দলীয় লোকজনের সাথে ও তেমন সুসম্পর্ক নেই। তিনি বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করে উপজেলাবাসীর নামে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ এনে তার সহযোগী লোকদের মাধ্যমে উপজেলার ভিতরে টাকা পয়সা নিয়ে এগুলো বন্টনের খবর প্রকাশিত হলে তার দলীয় কেউ এভাবে প্রকাশ্য উপজেলা চেয়ারম্যান নুনুর বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়নি।
একসময় উপজেলার ভুক্তভোগী মানুষজন পৌর মেয়র মুহিবুর রহমানকে বিভিন্নভাবে এগুলো তুলে ধরলে তিনি প্রকাশ্য সোশ্যাল মিডিয়া অফ ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। তখনও উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়া নিরব ছিলেন। এর আগে ২০২২ সালে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে উপজেলা সদরে তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল দেয় প্রতিবাদী জনতা।
জানা যায়, সর্বশেষ ২০২৩ সালে সরকারি বরাদ্দের ওয়াস ব্লক টিউবওয়েল ইত্যাদি দেখিয়ে তার সহযোগীরা একই উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি জামাল মিয়ার কাছ থেকে প্রায় চার লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ধরা পড়েছে চেক জালিয়াতিতেও। এরপর ভুক্তভোগী জামাল আদালতের দারস্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর একদিন পরেই এস এম নুনু মিয়া একটি facebook পেইজে লাইভ আলোচনায় এসে তার বিরুদ্ধে আমি তো অভিযোগ গুলোকে গা ডাকা দেয়ার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে তিনি পৌর মেয়র মুহিবুর রহমানকে নিয়ে মুখ খুলে বলেন, আমি হুশিয়ারী দিচ্ছি তোমাকে দেখব, তুমি কেমন বৈরাগী থেকে সোনার থেকে উপশহর এরপর ঢাকা পর্যন্ত তোমার কতটুকু অবস্থান আছে মানুষ জানে।
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আইনীভাবে মোকাবিলা করবেন।
এদিকে নুনু মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত এমন অভিযোগ হয়ে আসলে এখন পর্যন্ত তার এগুলো খতিয়ে দেখা হয়নি কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেয় নি প্রশাসন।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, তিনি অনিয়মের সাথে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে যে কেউ সমালোচনা করছে। তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।
এমন অবস্থায় মেয়র মুহিবুর রহমান কথা বলায় বিষয়টি আরও মানুষের নজরে এসেছে। সুশীল সমাজের অনেকেই বলছেন, নুনু মিয়া ও মুহিবুর রহমানের দলীয় কোনো দ্বন্দ্ব দেখছেন না তারা। তবে অনিয়মের বিরুদ্ধে মুহিব কথা বলছেন, এখন নুনু ও মুখ খুলেছেন।
এবিষয়ে পৌর মেয়র মুহিবুর রহমান বলছেন, উপজেলার এমন কোনো জায়গা নেই যে নুনু তার লোকজন সাধারণ মানুষকে ঠকায়নি। হাতে নাতে তথ্য প্রমান থাকা সত্ত্বেও নেই কোন ব্যবস্থা। আমি যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তার বিরুদ্ধে বলছি। অন্যায়ের কোনো ছাড় নেই। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথের জনসাধারণ কে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
