বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের কাতিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসি ও পুলিশ সুত্র জানায়, ওই গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে রাসেল আহমদ একই গ্রামের মৃত আলফু মিয়ার ছেলে আলী মিয়ার বাড়িতে গত ২ থেকে ৩ দিন আগে দিনমজুরির কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজে না যাওয়ায় আলী মিয়া তাকে গালিগালাজ করেন। এ দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এঘটনাকে কেন্দ্রে করে আলী মিয়া ও রাসেল পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য গ্রামের লোকজন সালিক বৈঠকের চেষ্টা চালান।
আজ কয়েকজন মধ্যস্থকারী আলীর বাড়িতে সালিশের জন্য গেলে ওই সময় আলী মিয়ার পক্ষের লোকজন বকাবকি শুরু করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এরই জের ধরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৪০ জন আহত হন।
এর মধ্যে গুরুত্বর আহত আবু সাইদ, লিটু মিয়া, আবুল হোসেন, নানু মিয়া, নাইম হোসেন, রুকন মিয়া, চানু মিয়া, আনর মিয়া, আছাব আলী, নুনু মিয়া, ছায়েদুর রহমান, দিলোয়ার হোসেন, খেদুল মিয়া, জায়েদ মিয়া, আজিজুর রহমান, সানু মিয়া ও রেনু মিয়াকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। অপর আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাহির মিয়া জানান, তুচ্ছ বিষয়টি নিয়ে রাসেল ও আলী মিয়ার মধ্যে কথাকাটির জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি সমাধানের জন্য গত দুইদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম। আজ আমি, আমাদের প্যানেল মেম্বারসহ গ্রামের সালিশি ব্যক্তিদের নিয়ে আলী মিয়ার বাড়িতে আমরা যাই। এসময় তারা লাঠিসোটা নিয়ে সালিশি ব্যক্তিদের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল বলেন, ‘মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষনিকভাবে সংঘর্ষে জড়িত থাকার সন্দেহে উভয়পক্ষের ১২ জনকে আটক করি। তাদের সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।’
