জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বাংলাদেশের নীল নদ খ্যাত সর্ববৃহত নদী হচ্ছে সারী নদী। সেই সারী নদীতে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু আহরনের প্রস্তুতি শুরু করে সোহেল তাজ গংরা।
সরজমিনে গেলে তারা দাবী করে সারী নদী খননের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসকের সাথে চুক্তি (ডিড) রয়েছে। কিন্তু চুক্তির কোন কপি দেখাতে পারেনি সোহেল তাজ গংরা। এবিষয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন কিছুই জানেন না।
সরজমিনে জানা যায়, ১৪২৯ বাংলা সনে সারী নদী তিনটি ভাবে বিভিক্ত করে দুটি অংশ (সারী-১: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সারী ব্রীজ হতে নিচের অংশ), (সারী-২: সারী ব্রীজ হতে লালখাল পর্যন্ত) এবং (সারী-৩: মামলা ভূক্ত দাগ সমুহ) তারমধ্যে সরকার বাহাদুর শ্রমিকদের মেনুয়েল পদ্ধতীতে (বালতি) দিয়ে বালু পাথর আহরনের জন্য ইজারা প্রদান করে।
ইজারাদার ব্যতি রেখে আরেকটি প্রভাবশালী চক্র সোহেল তাজ গং সরকার ঘোষিত মেনুয়েল পদ্ধতির বাহিরে অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে কামরাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সারী নদী খননেন নামে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু আহরনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।
এদিকে খবর পেয়ে এলাকার বালু শ্রমিক ও এলাকাবাসিরা দ্রুত বাঁধা প্রদান করে। কিন্তু শ্রমিক ও এলাকাবাসীর বাঁধাকে তোয়াক্কা না করে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে সোহেল তাজ গংরা।
সোহেল তাজ গংদের সাথে বোমা মেশিন বসানের বিষয় জানতে চাইলে তাদের প্রতিনিধি মাসুম আহমদ বলেন, আমরা সরকারের সাথে অনুমতি নিয়ে সারী নদী খননের জন্য সিলেটের ডিসি মহোদয়ের সাথে চুক্তি (ডিড) করে নদীর নাব্যতা সৃষ্টির জন্য সারী নদী খননের অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করছি। ডিসির সাথে চুক্তির কপি দেখতে চাইলে তারা কোন কাজপত্রাদী দেখাতে পারেনি। এমনকি সোহেল তাজ এলাকায় অবস্থান করলেও তিনি প্রতিবেদকের সম্মুখে আসেননি। পরে সোহেল তাজের সহযোগী মাসুম গংরা প্রতিবেদককে নানা ভাবে সংবাদ প্রচার হতে বিরত থাকার আহবান জানান।
সোহেল তাজ চারিকাটা ইউপির এক সদস্যের মোবাইল ফোনে জানান, আমার সাথে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাথে সারী নদী খননের নামে চুক্তি (ডিড) হয়েছে। সেজন্য আমি নদী খনন কাজ শুরু করেছি। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন অবগত আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে ডিসির সাথে চুক্তি হয়েছে সেখানে উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর প্রয়োজন নেই। অনুমতির কাগজ দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি।
নিজপাট ইউপির চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী বলেন, আমি জেনেছি তারা গায়ের জোরে বোমা মেশিন বা ড্রোজার মেশিন বসিয়ে কোন প্রকার অনুমতি ব্যাতিত নদী খনন কাজ শুরু করেছে। কিন্তু সারী নদীর প্রধান শাখা নদী বড় নায়াগাং নদীর ১০কিলোমিটার এলাকা বালুতে ভর্তি হয়ে পানি শুকিয়ে গেছে। সেই নদীর তীরবতী পারের বাসিন্দারা পানির জন্য হাহাকার করছে। সেই বড়নয়াগাং নদী খননের প্রয়োজন কিন্তু সেই নদী খনন না করে সারী নদীর নাব্যতা থাকার পরও প্রভাবশালী চক্র অবৈধ ভাবে খনন কাজের নামে বালু লুট করার পায়তারা করছে। তাদের কোন অনুমতি আছে বলে আমার জানা নেই। শ্রমিকদের স্বার্থে যন্ত্র দানব এই মেশিন বন্দের দাবী জানাচ্ছি।
জৈন্তাপুর উপজেলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, সারী নদী খননের কোন অনুমতি নেই। যুগ যুগ ধরে সারী নদীর নাব্যতাটির রয়েছে। যেখানে বালু জমছে সেগুলো শ্রমিকরা তুলে নিচ্ছে এবং সরকার বাহাদুর ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করছে। কেউ বোমা কিংবা ড্রেজার মেশিন বসানোর কোন অনুমতি নেই। শুধুমাত্র মেনুয়েল পদ্ধতী বালু আহরন হবে। যারা বোমা কিংবা ড্রেজার মেশিন বসিয়েছে তারা অবৈধ কাজ করেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম বলেন, ডিসি স্যার অনুমতি প্রদান করবেন উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই পত্র পাবে। কিন্তু নদী খননের বিষয় আমাদের কোন কিছু জানা নেই। যারা এটি করছে অবশ্যই এটা বেআইনি। এলাকাবাসী আমার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি বিষয়টি উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।
