সরওয়ার আহমেদ : গত শতাব্দিতে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো গুমের জন্য বেশ কুখ্যাতি পেয়েছিল ।১৯৭০ সালে অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে সামরিক শাসকরা ক্ষমতা দখল করে জনগণের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও বিগত বছরগুলো থেকেই প্রতীয়মান গুম হতেই চলেছে। অনেক মায়ের বুক খালি হচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী সহ প্রতিবাদী নেতারা একের পর এক গুম হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
উদাহরণ স্বরুপ এই ঘুমের তালিকায় রয়েছেন প্রথম সারির নেতা ইলিয়াছ আলী, ছাত্রদল নেতা দিনার আহমদ সহ অসংখ্য বিরুধী দলীয় নেতাকর্মী।
বাংলাদেশের আইনের ধারায় গুম শব্দটি নেই। কাজেই বাংলাদেশে গুমের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ালে অনেক প্রতীকুলতার সম্মুখীন হতে হয়। বিগত দিনে এরশাদ মুজিবীয় শাসনামলে অনেক জুলুম নির্যাতনের পর অবশেষে পতন শুরু হয়।
সাম্য, মানবিক মর্যাদার, আইনের শাসন, অবাধ গণতন্ত্র, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি।
কিন্তু স্বাধীনতার অর্জনের অর্ধশতাব্দী অতিবাহিত হলেও কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন হয়নি। স্বাধীনতার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ হবে জনগণের এবং জনগণের মাধ্যমে পরিচালিত দেশ। বাংলাদেশ হওয়ার কথা ছিল সব ধরনের বৈশম্যমুক্ত, অন্যায় অবিচার শোষণমুক্ত, সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তি কলান রাষ্ট্র। হয়েছে এর ঠিক বিপরীত দিক।
আমাদের আরো বড় অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে বৈষম্য ও দলীকরণ। এর ব্যাপক প্রভাবে বর্তমানে সরকারদলীয় ব্যক্তিরা ছাড়াও অন্য নাগরিকরা সরকারি সুযোগ সুবিধা যেমন চাকুরী ব্যবসা ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকার দলীয় লোকদের গোলাম হয়ে আছে। তারা যা বলছে তাই করছে।
শাসক গোষ্ঠীর রোশানলে পড়ে বাংলাদেশে মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ভিন্নমতের মানুষ। সব অধিকার হারা বঞ্চিত, লাঞ্চিত, অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ মুষ্টিবদ্ধ হাত প্রসারিত করার এখনই সময়।
