স্টাফ রিপোর্টার : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-কে নিয়ে কাযুক্ত এবং আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগে সিলেটের শাহপরান (রহ) থানায় এক যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ধারায় এই স্পর্শকাতর মামলাটি নথিভুক্ত করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামির নাম সাংজন চন্দ্র দাস (২১)। সে শাহপরান থানার অধীনস্থ উত্তর বালুচর এলাকার মানিক চন্দ্র দাসের ছেলে। অন্যদিকে, মামলার বাদী হলেন একই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাবুদ্দিন (৪৯)। তিনি গত ১১ আগস্ট, ২০১৬ তারিখ বিকেল ৩টার দিকে শাহপরান থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজহারে বাদী মো. শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত সাজন চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে আসছিল এবং অন্য ধর্মের প্রতি চরম অবমাননাকর ও বিদ্বেষী মনোভাব প্রদর্শন করে আসছিল। তার এই উচ্ছৃঙ্খল আচরণ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার বিচার-সালিশ সভা অনুষ্ঠিত হলেও সাজন নিজের আচরণ সংশোধন করেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসামি সাজন তার নিজ বসতঘর থেকে নিজের ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডি (SAJON CHANDRA DAS) থেকে পবিত্র ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী (সা)-এর নবুয়ত নিয়ে চরম আপত্তিকর ও কটূক্তিমূলক পোস্ট প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে মুহূর্তের মধ্যেই ওই অবমাননাকর পোস্টটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এই আপত্তিকর পোস্টের কারণে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনসাধারণের অনুভূতিতে চরম আঘাত লাগে। এর ফলে সমগ্র উত্তর বালুচর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই এলাকার গণ্যমানা মুরুব্বিদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা ও পরামর্শ করেন স্থানীয়রা।
বাদী মামলার নথিতে উল্লেখ করেছেন, মুরুব্বিদের সাথে এই আলোচনার কারণেই থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এই ঘটনার বস্তুনিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা তেরাই মিয়া, জয়নাল মিয়া ও কলিম উল্ল্যাহকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পরদিন, সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো সাইফুজ্জামান হিরো মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন। ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞ আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন (পুলিশ রিপোর্ট) দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।
সিলেট অঞ্চল সবসময়ই তার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দাপূর্ণ পরিবেশের জন্য দেশজুড়ে সমাদৃত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বাবহার করে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সেই সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
পুলিশ প্রশাসন এলাকাবাসীকে কোন ধরণের উসকানিতে কান না দিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।