বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমদের বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত কর্তৃক অতর্কিত হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিন ইউনিয়নের পশ্চিম বারোকোট গ্রামের বাড়িতে রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাগর আহমদের অসুস্থ মা-সহ পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে সায়েক ও লিবারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র যুবক সাগর আহমদের পশ্চিম বারোকোট গ্রামের বাড়িতে হানা দেয়। তারা প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের জানালার কাচ, আসবাবপত্র ও আঙিনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী আমির হোসেন জানান, "হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনে আমরা বাইরে আসি। দেখি একদল যুবক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাগরদের বাড়িতে ভাঙচুর চালাচ্ছে। আমরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।"
অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী মাহমুদ আলী বলেন,"হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসেছিল। তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি করে এবং ঘরের জিনিসপত্র ভাঙতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।"
হামলার ঘটনায় সাগর আহমদের বাবা বাবুল আহমদ বলেন এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই তিনি বলেন "আমার ছেলে রাজনীতি করে। কিন্তু তার জন্য এভাবে গভীর রাতে আমাদের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
ঘটনার সময় ঘরে থাকা সাগর আহমদের অসুস্থ মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,"আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। রাতে হঠাৎ করে ঘরের দরজা-জানালা ভাঙার শব্দে আমার বুক কেঁপে ওঠে। ওরা যেভাবে চিৎকার করছিল, আমি ভেবেছিলাম আমাদের মেরেই ফেলবে। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই। একজন অসুস্থ মানুষের ওপর এ কেমন বর্বরতা?"
পরের দিন খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাছির আহমদ জানান,"ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হবে।"
উপজেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতার বাড়িতে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
