নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাজ্য যাত্রা করেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ মহিবুর রহমান। এরপর তিনি আর দেশে ফেরেন নি। কিন্তু দেশে না ফিরলেও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একাধিক মামলার আসামি হতে হয়েছে তাকে৷ সিলেটের গোলাপগঞ্জে হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর এবার সিলেটে একটি হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন তিনি।
গত (৬ জুন) মাননীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত, সিলেটে (কোতোয়ালী সি.আর মামলা নং: ৬৪৮/২০২৫ ইং) যাহা (কোতোয়ালী থানার মামলা নং ৬, তারিখ: ০৫/০৬/২০২৫ইং) মামলাটি দায়ের করেন কোতোয়ালি থানার চন্দনটুলা এলাকার সিরাজ আহমদের ছেলে আলী আহমদ আলম (৩৯)। মামলায় তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানকে প্রধান আসামি করে ১১০ জনের নামোল্লেখ ও ৯০/১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করেন।
ওই মামলায় ১৭ নাম্বার আসামি করা হয় যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা মহিবুর রহমানকে। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের আজমান আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে গত ৪ আগস্ট সারাদেশের ন্যায় উত্তাল হয়ে সিলেট। এদিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানার দরগা গেইটস্থ নুরজাহান ক্লিনিকের সামনে ছাত্র-জনতা ও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে শান্তিপূর্ণ মিছিল সমাবেশ করছিলো। শান্তিপূর্ণ মিছিল সমাবেশ রুখতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলো। এসময় হঠাৎ করে মামলার ১নং আসামির নেতৃত্বে অন্য আসামিরা ছাত্র-জনতা ও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রের এলোপাতাড়ি ছুঁড়া গুলি থেকে বাঁচতে সমাবেশকারীরা দিগবিদিক ছুটতে থাকে।
এদিকে হত্যা মামলার পর হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি হওয়ার প্রবাসে থেকেও দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন মহিবুর রহমান। কারণ তিনি দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার নিশ্চিত। যে কারণে এই মূহুর্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তার দেশে ফেরা কল্যাণকর নয় বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।
