বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : বোধনের মধ্যে দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা বা মায়ের পূজা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনন্দধ্বনি শুরু হয়েছে।
এই উৎসব ঘিরে সারা দেশের ন্যায় সিলেটের বালাগঞ্জে বিভিন্ন মণ্ডপ-মন্দির সেজেছে নতুন রূপে। ঘরে ঘরে চলছে নানা আয়োজন। প্রতিমা তৈরি শেষ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা কর্মযজ্ঞ চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে বৰ্ণিল সাজসজ্জার কাজ। দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে, সাজসজ্জার নানা উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবর রাত থেকে শুরু হবে উৎসব চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। দেশের সবগুলো পূজামণ্ডপে বাজবে শীর্ষ, উঠবে উলুধ্বনি।
ইতিমধ্যে পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়া হক, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া ফেরদৌস।
এছাড়াও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ৩২টি মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন এবং বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত অনুদানও পৌঁছে দিচ্ছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২৯টি সার্বজনীন মণ্ডপ ও ৩টি ব্যক্তিগত পূজা মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ৩২টি মণ্ডপে ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি আর আরতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে পূজা মণ্ডপগুলো। পাশাপাশি আলোক সজ্জা, প্যান্ডেল তৈরি, মণ্ডপ ও তার আশপাশে সাঁজসজ্জা কাজসহ নানা কাজেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পূজা কমিটি ও সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিমা কারিগরেরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছে তারা। এখন আর এ কাজে লাভ নেই। বেশ কয়েক বছর ধরে প্রতিমা তৈরি ও পূজার উপকরণের দাম বাড়লেও এবার তা চরমে পৌঁছেছে। কোনো কোনো উপকরণের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও বাড়েনি কারিগরদের মজুরি। তাই পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে বিকল্প পেশা খুঁজছেন অনেকে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রজত চন্দ্র দাশ ভূলন বলেন, শুক্রবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব। এরপর মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও দশমীতে (২৪ অক্টোবর) বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি হবে। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে পূজা মণ্ডপ গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন। পাশাপাশি আমাদের উদ্যোগে উপজেলায় ৬০ জন সদস্যের একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। যারা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে পূজামণ্ডপের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে।
সবাইকে শারদীয় দূর্গোৎসব শুভেচ্ছা জানিয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নয়ন তালুকদার বলেন, এ বছর বালাগঞ্জ উপজেলায় ৩২টি পূজা মণ্ডপে দূর্গা মায়ের পূজা হবে। ইতিমধ্যে শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে উদযাপনের লক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা সবাইকে বালাগঞ্জ উপজেলাধীন প্রত্যেক পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন এবং বিজয়া দশমীতে বালাগঞ্জ বিসর্জন মঞ্চে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। এবং শারদীয় দূর্গোৎসবের প্রতিটি পর্ব সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে উদযাপনের জন্য সকলের সহযোগিতা চান তিনি।
বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমা প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার ৩২টি মণ্ডপ কমিটি ও উপজেলা কমিটির প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। পূজা উদযাপনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে পুলিশ-আনসার-ভিডিপির সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া ছাড়াও রয়েছে পুলিশের নিয়মিত টহল।
