শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিরাজুল ইসলাম তার শ্যালক ফজলুল করিমের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তাকে সদর হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর পর সন্ধ্যায় তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শার্টের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। যা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছে। আজ শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিরাজুলের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পার্শ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর গ্রামের কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।
উদ্ধার করা চিরকুটে লেখা রয়েছে সুদ খোরদের অত্যাচারে বাঁচতে পারলাম না। আমার জায়গা, জমি বাড়ি বিক্রি সব দিয়েছি। এক এক জন থেকে যে টাকা নেওয়া তার থেকে সাত, আট, দশগুন পরিমাণ টাকা দিয়েও রেহাই মেলেনা। কেউ কেস করছে, কেউ কেউ অপমান অপদস্থ, আমি আর সহ্য করতে পারছি না। তাই বিদায় নিলাম।আমার জানাযা হবে কি না জানিনা, যদি হয় তখন সব সুদখোররা টাকা চাইবে। আর তো কিছু নাই, তাই আমার শরীরটাকে কেটে ওদেরকে দিয়ে দেবেন। এই সুধখোরদের বিচার আল্লাহ করবে।
সুধখোরদের নাম বললাম না, কিন্তু তারা সবাই টাকার জন্য আসবে। আসলে, বুঝতে পারবেন তারা কারা। আমি ক্ষমার অযোগ্য, তবুও পারলে ক্ষমা করে দিবেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানায়, সিরাজুল ইসলাম ১৯৯২ সাল থেকে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাইতুন নামের একটি কোম্পানীতে চাকুরি করতেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের আগে জেন্দাতেই চাকুরির পাশাপাশি সেখানে আলাদা ব্যবসা শুরু করেন। ২০২০ সালে করোনা শুরু হলে নিজের ব্যবসাতে যেমন লস হয় তেমনি বন্ধ হয়ে যায় চাকুরি করা কোম্পানীটিও। সেখানেও তার কাছে পাওনা বকেয়া ছিল প্রায় ২৫ লাখ টাকা।ওই বছরের ২২ আগস্ট দেশে ফিরে আসেন সিরাজুল ইসলাম। এরপর বিভিন্ন এনজিও ও সুদে মানুষের থেকে টাকা নিয়ে সৌদি আরবে পাঠিয়ে ধার শোধ করতেন তিনি। এর জন্য নিজের জমি, বাড়ি সবই বিক্রি করতে হয়। এনজিও গুলোর টাকা শোধ হলেও সুদের কারবারিরা টাকা পরিশোধের পরও তাকে নিয়মিতই টাকা চেয়ে মান, অপমান, হয়রানি করতো। তার দুই ছেলে বিদেশে থাকে আর মেয়ে শিক্ষকতা করে বলে জানান তারা।
সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী সফুরা খাতুন জানান, স্বামীর বিদেশের দেনা শোধ করতে অনেকের থেকে সুদে ঋণ নিতে হয়েছিল। সুদে কারবারিদের টাকা আসল, সুদসহ কয়েকগুন বেশি দেওয়া হয়েছে। তবুও তারা টাকা পাবে বলে বাজার ঘাটে, বাড়ি সকল স্থানে অপমান করতো, চেকের মামলার ভয় দেখাতো। আমি এসকল সুদখোরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাদের জন্য প্রাণ দিতে হল আমার স্বামীকে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে পুলিশ তদন্ত করছে। যদি সুদের বিষয়টা প্রমাণ হয় তাহলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।