মো: রিয়াজ উদ্দিন, লন্ডন প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকারের এক দফা দাবিতে লন্ডনে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি এন্ড হিউমান রাইটস’ গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।
লন্ডনের হাইড পার্ক স্পিকার কর্ণার থেকে ওয়েস্ট মিনিস্টার, ট্রাফালগার স্কয়ার হয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে পদযাত্রাটি সমাপ্ত হয়।
পদযাত্রা শেষে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিসে স্মারকলিপি প্রদান করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক এম কয়সর আহমেদসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারা।
এম এ মালেক ও এম কয়সর আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা স্মারক লিপিতে বলেছি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার মানুষের দাবি বিবেচনায় নিয়ে যেন বৃটিশ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপি আয়োজিত এই গণপদযাত্রায় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর এবং সর্ব ইউরোপ থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকগণ এসে যোগ দেন। অনেককে পরিবার-পরিজনসহ পদযাত্রায় অংশ নিতে দেখা যায়। পদযাত্রার বহর একপর্যায়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ হয়ে যায়।
এ সময় নেতাকর্মীরা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবিসহ নানা স্লোগান দেন। অনেকে হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করেন। পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা শর্তে মুক্তি দিয়ে বিদেশে উন্নত বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ প্রদান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।
এম এ মালেক, এম কয়সর আহমেদ জানান, গণপদযাত্রা সফল করতে যুক্তরাজ্য বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মাসব্যাপী প্রচারণা সভা, লিফলেট বিতরণসহ প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। পদযাত্রায় কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন কমিউনিটি ও পেশাজীবী সংগঠনের লোকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন শহর থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র জোনাল কমিটির নেতৃত্বে আসা খন্ড খন্ড মিছিল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সেন্ট্রাল লন্ডনের পুরো এলাকা পরিণত হয় একখন্ড প্রতিবাদী বাংলাদেশে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে জনসমাগমের দিক থেকে স্মরণকালের এটিই বৃহত্তম সমাবেশ।
