কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রায় ১২ লাখ টাকা পাওনাদারকে না দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দুই ভাই কারাগারে।
তারা হলেন ছাতকের ধনিটিল্লা গ্রামের সমাদ মিয়ার মেঝো ছেলে রুবেল মিয়া (৩২) ও ছোট ছেলে জুয়েল মিয়া (২৭)।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়ী গ্রামের পাথর ব্যবসায়ী জালাল আহমদের দায়ের করা মামলায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। কোতোয়ালি থানার মামলা নং ৪০/৪৭৭।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জের পাথর ব্যবসায়ী জালাল আহমদের সাথে ছাতকের ধনিটিল্লা গ্রামের রুবেল মিয়া (৩২) ও জুয়েল মিয়া (২৭) সহ তার ভাইদের পাথরের ব্যবসা ছিল দীর্ঘদিনের। ব্যবসায়িক লেনদেন সময় বিভিন্ন তারিখে জালাল আহমদকে এলসির চুনাপাথর দেওয়ার জন্য অগ্রীম ১১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নেন আসামিরা। টাকা নিয়ে পাথর না দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ ছেড়ে নিজ এলাকায় চলে যায় তাঁরা। পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য জালাল আহমদ ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা, মুরব্বি ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে সালিশ বিচার দিলে আসামিরা টাকা দেয় দিচ্ছি বলে প্রতারণা করে।
সালিশি বিচারে টাকা না পেয়ে জালাল আহমদ কোম্পানীগঞ্জ থানায় রুবেল মিয়া সহ অন্যদের বিরুদ্ধে পাওনা ১১লাখ ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধারে লিখিত অভিযোগ করেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই শাহ আলম অভিযোগটি তদন্ত করে বিবাদীদের থানায় আসতে বললে ক্ষিপ্ত হয় তাঁরা।
থানায় অভিযোগ করার কারণে জালাল আহমদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে জুয়েল মিয়া সহ আসামিরা গত ২০ আগস্ট বিকেলে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় জালাল আহমদের উপর হামলা করে জুয়েল ও রুবেলের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জালা আহমদকে আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে হোটেল টি ল্যান্ডে নিয়ে আটকে রেখে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে আসামিরা জানান তাদেরকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের স্বাক্ষী শুনে পুলিশ নিশ্চিত হয় ৯৯৯ এ ফোনকারীরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশ ডেকেছে।
জালাল আহমদ জানান, আমি তাদের কাছে টাকা পাই। সেই টাকা উদ্ধারের জন্য তাদের আত্মীয় স্বজন ও তেলিখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলফু মিয়া সহ মুরব্বিদের কাছে সালিশ বিচার দিলে তারা টাকা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় ও তারিখ দিলেও তাঁরা আমার পাওনা টাকা না দেওয়াতে থানায় অভিযোগ দিলে তাঁরা আমাকে আম্বরখানা এলাকায় একা পেয়ে হামলা করে তাঁরাই আবার পুলিশকে ফোন দিয়ে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে চেয়েছিল। টাকার পাওয়ার প্রমাণ ও হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থাকায় তাঁরা আমাকে মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই জেল হাজতে গিয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার চৌধুরী জানান, এঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের জালাল আহমদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার আইন ২০২সংশোধনী ২০১৯ এর ৪/৫ ধারায় মামলা রেকর্ড করে দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
