গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জে ৪ লক্ষ টাকা খরচ করে যুক্তরাজ্য পাঠিয়ে ৩০ বছর পরও সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় ও আমলী আদালতে মামলা করেছেন মো.আব্দুল লতিফ সরকার নামে এক ভুক্তভোগী।
গত (১২ ডিসেম্বর) ২জনকে আসামি করে তিনি এ মামলা (মামলা নং : ৪০২/২০২২ ইং) দায়ের করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন- উপজেলার রনকেলী দক্ষিণভাগ গ্রামের লায়েক আহমদ চৌধুরীর স্ত্রী জেনী চৌধুরী (৫৪) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া বাড়ুহুদা গ্রামের মৃত নুরল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে নিপু চৌধুরী (৫০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ বছর আগে ১৯৯২ সালে মামলার এক নাম্বার আসামি জেনী চৌধুরীর স্বামী যুক্তরাজ্য থাকাবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি দেশে আসতে পারছিলেন না। যে কারণে বাংলাদেশে থাকা জেনী চৌধুরী তার ১২ বছরের পুত্র রিফাত আহমদ চৌধুরীকে নিয়ে পাগল প্রায় হয়ে পড়েন। ওই সময় মামলার বাদি আব্দুল লতিফ সরকারের শরণাপন্ন হন তিনি।
মামলার বাদি আব্দুল লতিফ সরকার একজন ট্রাভেলস ব্যবসায়ী। জেনী চৌধুরী মামলার বাদির কাছে গিয়ে সবকিছু খুলে বলেন। সেই সাথে তার ছেলের ভিসা করিয়ে দিয়ে যুক্তরাজ্য পাঠিয়ে দিলে যা খরচ আসবে তিনি সেখানে পৌছানোর কয়েকদিনের ভিতরে পরিশোধ করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। যুক্তরাজ্যে থাকা জেনী চৌধুরীর অসুস্থ স্বামী লায়েক আহমদ চৌধুরীও সেখান থেকে টাকা পরিশোধ করবেন বলে কথা দেন। তখন মামলার দুই নাম্বার আসামি নিপু চৌধুরী (৫০) জেনী চৌধুরীর সহদোরও একই কথা বলেন।
জানা যায়, তখন মামলার আসামি জেনী চৌধুরীর অসহায়ত্ব দেখে মামলার বাদি আব্দুল লতিফ সরকার নিজের ৪ লক্ষ টাকা খরচ করে ওই মহিলার ছেলের ভিসা ও মহিলাসহ ছেলেকে যুক্তরাজ্য পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেন। গত ৩০ বছরেরও বিদেশ যাওয়ার পর মামলার আসামি জেনী চৌধুরী মামলার বাদি আব্দুল লতিফ সরকারের টাকা পরিশোধ করেননি।
আরো জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর সালিশ বৈঠকে ৩০ বছর আগের ৪ লক্ষ টাকার বর্তমান সমমূল্যের ৯ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন তারা উপস্থিত সকলের নির্দেশ মেনে নিয়ে ৩০ নভেম্বর ৯লক্ষ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ৩০ নভেম্বর টাকা না দিয়ে জেনী চৌধুরীর স্বামী গোপনে টিকেট করে দেশ ত্যাগ করেন।
এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, গত ৪ ডিসেম্বর গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে মামলার ২নাম্বার আসামি নিপু চৌধুরীর সাথে মামলার বাদির দেখা হলে নিপু চৌধুরী বাদিকে হুমকি প্রদান করেন। সেই সাথে মামলার বাদিকে খুন জখমের ভয় দেখিয়ে টাকা দিবেন না বলে জানান। এছাড়াও জেনী চৌধুরীর স্বামী লায়েক আহমদ চৌধুরী সেখান থেকে তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদি মো.আব্দুল লতিফ সরকার বলেন- একজন মহিলার অসহায়ত্ব দেখে নিজের ৪ লক্ষ টাকা খরচ নাবালগ পুত্রের ভিসা ও মহিলাসহ পুত্রকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। ৩০ বছরে তারা আমার সেই টাকা পরিশোধ করেনি। বিচার বৈঠকেও কোন কাজ আসছেনা। টাকা খুজতে গেলে আরও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। শুনছি ওই মহিলা বিদেশ যাওয়ার সকল ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে। তাই প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে ওই মহিলা যাতে বিদেশ যেতে না পারে এজন্য অতিসত্বর তার পাসপোর্ট জব্দ করা হোক।
এবিষয়ে জানতে মামলার ১নাম্বার আসামি জেনী চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
