জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের সুটারীসেন গ্রামের হাওরে সরকারী একটি জলমহালের দখল নিয়ে একই এলাকার স্থানীয় দু'টি গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষে নারী-পুরুষ সহ অন্তত ৩০ জন লোক আহত হয়েছেন।
আহতদের জৈন্তাপুর সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকেই সিলেটের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে আহত অনেকেই চিকিৎসা গ্রহন করে বাড়িতে চলে গেছেন।
গুরুত্বর আহত ৪জন কে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সুটারী সেনগ্রামের হাওরের ছাড়াল কান্দি নামে পরিচিত সরকারী জলমহল (বিলের) দখল নিয়ে বিলের পাড়ের রাস্তায় স্থানীয় আব্দুল খালিক গ্রুপ এবং হানিফ আলী গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হানিফ আলীর দাবী স্থানীয় একটি মৎস্যজীবি সমিতির নামে জলমহালটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। আব্দুল খালিকের দাবী সরকারী খাস জলমহাল স্থানীয় গ্রামবাসি ভোগদখল করে মাছ আহরণ করবেন।
মুলত এই বিরোধ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় গ্রামের জনসাধারণ দুইটি গ্রুপে বিবক্ত হয়ে পড়েন।
বিল দখল কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের এই ঘটনায় উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ সহ অন্তত ৩০/৩৫ জন লোক আহত হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম দস্তগীর আহমেদ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স প্রেরণ করেন। অন্তত ১ঘন্টা সময় ধরে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।
এসময় উভয় পক্ষের হাতে দেশীয় অস্ত্র-ছিল। উভয় পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। ঘটনার পর জৈন্তাপুর সরকারী হাসপাতালে সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আহত বেশির ভাগ মানুষের মাথা, হাত ও পা-মূখ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তকরণ হচ্ছে।
তবে কেউ নিহত হন নাই।
ওসি গোলাম দস্তগীর আহমেদ, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ অনেক চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি নূরুল ইসলাম সহ জনপ্রতিনিধিগণ জৈন্তাপুর হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।
উভয় পক্ষের আহতরা হলেন কলেজ ছাত্র কায়ছার আহমদ(২৫), জুবেল আহমদ (২৩), লোকমান আহমদ(৩০), রহিম উদ্দিন (৩২), আব্দুল করিম, (৩৪), আলা উদ্দিন (৪০), তোতা মিয়া (৪০), নিজাম উদ্দিন (৩৪), কলিম উল্লাহ (৪৫), আব্দুর রহমান (৩৬), মরিয়াম বেগম (৩৪), মো: আব্দুল্লাহ (৩৩), নূরুল হক (৩৭), আলকাছ আলী (৩৪), হোসেন মিয়া (৪২), সাইফুল আলম (৩২),আব্দুন নুর (৩৬), আলী আহমদ (৩৪)।
তাৎক্ষনিক ভাবে অন্য আহতদের নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয় নাই।
এই সংঘর্ষের ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগণ সামাজিক ভাবে সালিশ বিচারে বিষয়টির নিষ্পত্তি করার উদ্যােগ গ্রহন করছেন বলে দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় ময়-মুরব্বিয়নদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্বার করে হাসপাতালে প্রেরনের ব্যবস্থা করা হয়।
এই ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমিসহ আমাদের পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে ছুটে যাই । স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ গন্যমান্য ব্যক্তিগনের সহযোগিতায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারী জলমহাল নিয়ে দু'টি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
তিনি বলেন- হাসপাতালেও আমাদের পুলিশ ফোর্স ছিল। এখন পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষই অভিযোগ দায়ের করে নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
