আলোচিত সিলেট ডেস্ক : সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে উপজেলার বাসিন্দা কাঞ্চন বিবি। তার ঔরসজাতে ৫ প্রবাসী ছেলেসহ ৭ ছেলে থাকলেও অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তার। সন্তানদের অবহেলা, অযত্ন ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তিনি।
অবশেষে সন্তানদের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে বৃদ্ধা মা থানা পুলিশে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার ওসি মা ও সন্তানদের ডেকে এনে সমঝোতা করে দেন। এছাড়াও মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সন্তানদের অঙ্গীকার করান।
জানা যায়- উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর স্ত্রী কাঞ্চন বিবির ৭ ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এরমধ্যে ৫ ছেলে প্রবাসী ও দুই মেয়ে বিবাহিত। বাড়িতে দুই ছেলে বসবাস করছেন। স্বামী রুস্তম উল্যার মৃত্যুর পর স্ত্রীর নামে রেখে যাওয়া ৪০ শতক জায়গা দুই সন্তান ইতালি প্রবাসী তৌরিছ মিয়া ও বাড়িতে থাকা ফরুক মিয়া কৌশলে নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। এ নিয়ে অপর সন্তানরাও মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর ভরণপোষণের খরচ বন্ধ করে দেয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার জগন্নাথপুর থানায় মা ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় এক বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয়পক্ষের ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়। এসময় চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কাঞ্চন বিবি জানান- ‘ছেলে-মেয়েদের অযত্ন অবহেলায় প্রায় একা হয়ে পড়ি। সন্তানরা তাঁর ভরণপোষণ বন্ধ করে তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। তাদের দুর্ব্যবহারে নিরুপায় হয়ে আমি পুলিশের শরণাপন্ন হলে পুলিশ সন্তানের ডেকে এনে তার ভরণপোষণ দিতে অনুরোধ করায় সন্তানরা ভরণপোষণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।’
ওই নারীর ছেলে ফারুক আহমদ বলেন- মায়ের সাথে জায়গা জমি নিয়ে আমাদের মানসিক দূরত্ব ও ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এখন ভুল বুঝাবুঝির সমাধান হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন- মায়ের ভরণপোষণ দিচ্ছে না সন্তানরা। দুঃখ কষ্টে দিন কাটছিল বৃদ্ধা মায়ের। এ খবর শুনে মর্মাহত হয়ে ছেলেদের ডেকে এনে বুঝানোর পর তাঁরা মায়ের ভরণপোষণ দিতে সম্মত হয়। এছাড়াও মায়ের কাছ থেকে কৌশলে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া জায়গা দুই ভাই মায়ের নামে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
