শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। পরে শনিবার সকালে সেই দুই পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাদের মধ্যে একজন সুলতানা বেগম (২৮)। তিনি সিলেট নগরের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে কর্মরত। বর্তমানে তিনি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হলেও তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো।
তিনি জানান, সিলেট বিমানবন্দর এলাকার একটি টিনশেডের একতলা বাসায় তারা দুটি পরিবারের বসবাস। শুক্রবার রাতে দুই পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে সুলতানার ভাই সাহেদ আহমদ রাতে অন্যত্র খেয়ে আসায় বাসায় রাতের খাবার খাননি। সাহেদ প্রায় পুরো রাতই জেগে ছিলেন। ভোর ৫টার দিকে পাশের কক্ষ থেকে মা-বোনের চিৎকারে তিনি দৌঁড়ে গিয়ে দেখেন-তাদের রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কাটা। এ সময় সাহেদের মা সাহেদকে বলেন- গ্রিল কাটার শব্দে তার ঘুম ভেঙে গেলেও তিনি চোখে ঝাপসা দেখছিলেন এবং কয়েক বার বমি করেন। তাই চিৎকার করে ছেলেকে ডাকেন। সাহেদ এ সময় মা-বোনসহ তার পরিবারের ৩ জনকে অসুস্থ দেখতে পান। এসময় পাশের ইউনিটের লোকজনকে ডাকতে গিয়ে তাদেরও একই অবস্থা দেখতে পেয়ে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে অসুস্থ সবাইকে নিয়ে গিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুলতানা বেগম আরও জানান, তাদের দুই পরিবারের মোট ৯ জন অসুস্থ। এর মধ্যে শনিবার বিকাল পর্যন্ত দুজনের জ্ঞান ফেরেনি। তবে বাকি সবার অবস্থা উন্নতির দিকে।
সাহেদ আহমদ জানান, অসুস্থদের চিকিৎসা প্রদানের ব্যস্ততায় এ বিষয়ে এখনও থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের ব্যস্ততা শেষে মামলা দায়ের করবেন।
তবে বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে সুস্থদের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে জেনেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
