আলোচিত সিলেট ডেস্ক : গণফোরামের এমপি মোকাব্বির খান সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে বিল পাসের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার প্রশ্ন, সরকার কি নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে? নাকি সরকার ধরেই নিয়েছে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না বা পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারবে না। অথবা এখানে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িত। এসব বিষয়ে স্পষ্ট করা দরকার। সোমবার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট বিল-২০২৩ পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে মোকাব্বির খান এই প্রশ্ন রাখেন।
তিনি বলেন, সরকারের শেষ সময়ে এসে এত বিলের জট কেন? গত রোববার সংসদে সাতটি বিলের প্রতিবেদন এসেছে। এমপিরা কটি বিল স্টাডি করবেন? এ জন্য সময় প্রয়োজন। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে বিলগুলো মানসম্মত আইনে পরিণত হওয়ার সুযোগ খুবই কম। তিনি বলেন, সরকার অনেকগুলো পুরোনো আইনকে যুগোপযোগী করার চেষ্টা করছে। এটি ইতিবাচক। তবে সরকারের শেষ সময়ে এসে কোন আইন, কখন আসছে, কখন পাস হচ্ছে, তা বলা মুশকিল।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন এমন মন্তব্য করে মোকাব্বির খান বলেন, বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার।
দেশের মানুষ নির্বাচন নিয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কথিত গণতন্ত্রের নামে দুটি রাজনৈতিক বলয় মুখোমুখি সাংঘর্ষিক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। দেশটাকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলছে।
আজ সংসদে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট বিল, ২০২৩’ পাস হয়। শিল্প খাতে ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ সেবা ও গবেষণা কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়ার জন্য এই বিল আনা হয়। বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে বিলটি সংসদে পাস হয়। এ ছাড়া মেধাসম্পদকে অধিকতর সুরক্ষা দিতে ‘বাংলাদেশ পেটেন্ট বিল, ২০২৩’ গতকাল সংসদে পাস হয়।
২২ অক্টোবর থেকে চলতি একাদশ সংসদের ২৫তম অধিবেশন চলছে। এই অধিবেশন চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এটিই হতে পারে চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন। ৯ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে মোট ২২টি বিল পাস হওয়ার কথা আছে। গত দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস হয়েছিল।
সুত্র : সমকাল/মানবজমিন
